নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নে বাড়ির পাশে মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনতাই, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো তাদের বসতঘরে প্রতিশোধমূলক হামলার অভিযোগ তুলেছে। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে প্রকৃত ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের বিচ্ছিন্নপাড়া এলাকার। এ ঘটনায় নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে নারগিছ বেগম (৩৬) বাদী হয়ে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে মো: আকিবুল ইসলাম প্র: ওয়াকিব (২৩) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার নালিশি দরখাস্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওয়াসিফ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। এমনকি এর আগেও মাদকসেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছিল বলে দরখাস্তে দাবি করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তাঁর বাড়ির পাশে মাদকসেবনে বাধা দিলে অভিযুক্ত ওয়াসিফ ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁর।
এ সময় গৃহবধূর গলায় থাকা ছয় আনা ওজনের প্রায় ৯০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ির সামনে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে পাঁচ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন এবং বাদী ও তাঁর স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
তবে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে অভিযুক্ত পক্ষ। তাদের দাবি, ঘটনার পর বিরোধটি স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি সমাধানের পরিবর্তে বাদীপক্ষ উল্টো তাদের বসতঘরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে তারা।
একই সঙ্গে গৃহবধূর স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত পক্ষ।
এদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে আসায় ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে বাদীপক্ষ মাদকসেবনে বাধা দেওয়ার জেরে মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনতাই, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা এবং নিজেদের বসতঘরে পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলেছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, গত ২৭ অক্টোবর প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল? গৃহবধূকে মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু? অভিযুক্ত পক্ষের বসতঘরে প্রতিশোধমূলক হামলার যে পাল্টা অভিযোগ উঠেছে, তার ভিত্তিই বা কী?
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগ এবং অভিযুক্ত পক্ষের পাল্টা দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে উভয় পক্ষের বক্তব্য, ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ এবং অভিযোগে উল্লেখ করা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাঁশখালীর সাধনপুরে বাড়ির পাশে মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে মারধর, চেইন ছিনতাই ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা। অভিযুক্ত পক্ষ চেইন ছিনতাই অস্বীকার করে পাল্টা হামলার দাবি করেছে।



0 মন্তব্যসমূহ