নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নে পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, এক বৃদ্ধকে মারধর এবং আনসার বাহিনীতে চাকরির প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে আনসার সদস্য নজির আহমদের বিরুদ্ধে। তিনি পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিরোধপূর্ণ জমি বৈধভাবে ক্রয়ের দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ঘাটঘর এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত সাহাব মিয়া জীবিত থাকাকালে সেন্টারপাড়া এলাকায় তাঁর ভোগদখলীয় জমি থেকে প্রায় দুই কানি জমি আনসার সদস্য নজির আহমদের পিতা আব্দু সমত মিস্ত্রির কাছে বিক্রি করেন। অবশিষ্ট আট গন্ডা জমি সাহাব মিয়া নিজেই ভোগদখল করে আসছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ওই জমি তাঁর ছেলে-মেয়েরা ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি পরিবারের।
অন্যদিকে, আব্দু সমত মিস্ত্রি জীবিত থাকাকালে তাঁর ক্রয়কৃত দুই কানি জমি থেকে এক কানি ১৩ গন্ডা অন্যত্র বিক্রি করে দেন। অবশিষ্ট জমি তাঁর ওয়ারিশরা, অর্থাৎ আনসার সদস্য নজির আহমদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভোগদখল করে আসছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি আনসার সদস্য নজির আহমদ নিজ পরিবারের দখলে থাকা জমির পাশাপাশি প্রয়াত সাহাব মিয়ার ওয়ারিশদের ভোগদখলীয় আট গন্ডা জমিও জোরপূর্বক দখলে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাহাব মিয়ার মেয়ের জামাই বৃদ্ধ সৈয়দ নুরকে একা পেয়ে মারধর করেন নজির আহমদ। এ সময় তাঁর মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নারী জানান, সৈয়দ নুর একজন বয়স্ক মানুষ। জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে একা পেয়ে মাথায় আঘাত করেন আনসার সদস্য নজির আহমদ। এ ছাড়া আনসার বাহিনীতে চাকরির প্রভাব দেখিয়ে নজির আহমদ স্থানীয়দের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে আনসার সদস্য নজির আহমদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমি তিনি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন এবং এর স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রও তাঁর কাছে রয়েছে। উল্টো প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর জমি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান তাকে এই বিষয়ে ডাকলে সাড়া দিতে পারেন নাই বলেও জানান তিনি।
এদিকে একই জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে বিরোধ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে সাহাব মিয়ার ওয়ারিশরা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে নজির আহমদ ওই জমি ক্রয়ের দাবি করছেন।
তবে বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য ভূমি রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে সৈয়দ নুরকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণেও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি একজন আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা হামলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাঁশখালীর পুকুরিয়ায় আট গন্ডা জমি দখল ও বৃদ্ধ সৈয়দ নুরকে মারধরের অভিযোগ আনসার সদস্য নজির আহমদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করে বৈধভাবে জমি কেনার দাবি তাঁর। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।



0 মন্তব্যসমূহ