নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয়ে ব্যবসায়ী মো. এহসান প্রকাশ হাসানকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া পেকুয়ার রাজাখালী এলাকার নেজাম উদ্দিন প্রকাশ নেজু মেম্বারকে ছেড়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মুক্তির খবর প্রকাশ করা হলেও কী কারণে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং কোন ভিত্তিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে থানার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টা ২৫ মিনিটে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে ব্যবসায়ী এহসান প্রকাশ হাসানকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যায় এসআরবি পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, তাঁকে তুলে নেওয়া ব্যক্তিরা প্রকৃত এসআরবি সদস্য নন।
এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত, অর্থাৎ রোববার (১৮ অক্টোবর) আনুমানিক ২টার দিকে পেকুয়ার রাজাখালী এলাকা থেকে নেজু মেম্বারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে রোববার গণমাধ্যমকে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, ব্যবসায়ী অপহরণের ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নেজাম উদ্দিন প্রকাশ রেজু নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তবে সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Nazem Uddin’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নেজু মেম্বারের মুক্তির খবর জানিয়ে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টে লেখা হয়, ‘আলহামদুলিল্লাহ, নেজু মেম্বার মুক্ত। রাজাখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।’
পোস্টটি প্রকাশের পর নেজু মেম্বারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার কারণ এবং পরবর্তী সময়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী অপহরণের মতো গুরুতর ঘটনার তদন্ত চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া ব্যক্তির বিষয়ে কী তথ্য পেয়েছিল পুলিশ এবং তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী ছিল, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হকের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুত করা পর্যন্ত তাঁর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এদিকে ব্যবসায়ী এহসান প্রকাশ হাসানকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাঁশখালীতে ব্যবসায়ী অপহরণের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া নেজু মেম্বারের মুক্তির খবর ফেসবুকে। কেন তাঁকে নেওয়া হয়েছিল, কী ভিত্তিতে ছাড়া হলো? ওসির কাছে জানতে চেয়েও মেলেনি জবাব।



0 মন্তব্যসমূহ