Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

বাঁশখালী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়ম ও দেরিতে আসাসহ নানা অভিযোগ

বাঁশখালী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়ম ও দেরিতে আসাসহ নানা অভিযোগ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা খামারিদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট সময়ে দপ্তর খোলার কথা থাকলেও শীর্ষ কর্মকর্তাসহ অনেকের বিরুদ্ধেই দেরিতে উপস্থিত হওয়া এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৫ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদারের কক্ষ এবং কৃত্রিম প্রজনন কর্মকর্তা সুমন কর্মকারের কক্ষ তালাবদ্ধ ও ফাঁকা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন ডা. জুয়েল মজুমদার। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন। এর আগে গত ২৫ আগস্ট কর্মস্থলে অনিয়মিত থাকার অভিযোগে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। অনুসন্ধানে জানা যায়, কৃত্রিম প্রজনন কর্মকর্তা সুমন কর্মকারও নিয়মিত অফিস করেন না এবং সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী খামারি মো. ইউনুস জানান, কৃত্রিম প্রজননে সরকারি ফি কম হলেও তার কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করা হয়। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডা. জুয়েল মজুমদার। এছাড়া বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় দেওয়া প্রণোদনার সামগ্রী বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় খামারিরা। জামশেদ ডেইরি অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী নুরুল আলমসহ বেশ কয়েকজন খামারি দাবি করেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বাদ পড়লেও রাজনৈতিক পরিচয়ে অনেকে এই সুবিধা পেয়েছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. জুয়েল মজুমদার জানান, তালিকাভুক্ত পিজি সদস্যদের নিয়মানুযায়ীই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জুলকারনাইন শাওনের চাকরির মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হলেও তিনি নিয়মিত অফিস করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মো. জুলকারনাইন শাওন জানান, তিনি দপ্তরে কাজের জন্যই যান। ২২ বছর ধরে কর্মরত উপসহকারী প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কে এম ফরিদুল আজিমও নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন যোগদানকারী চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংক্ষেপে:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, চিকিৎসায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাঁশখালী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়ম ও দেরিতে আসাসহ নানা অভিযোগ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ