চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মো. এহসান প্রকাশ হাসান (৩৬) নামের এক ব্যবসায়ীকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকার তাঁর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘটনার দিন রাতেই এসংক্রান্ত একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এসআরবির লোগোযুক্ত পোশাক, মুখে মাস্ক এবং মাথায় ক্যাপ পরা কয়েকজন যুবক তাঁর দোকানে প্রবেশ করেন। তবে এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা প্রকৃত এসআরবি সদস্য নন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যবসায়ী এহসান পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার তেলিয়াকাটা গ্রামের হাজী নুরুল কবিরের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় কাটিয়ে দেশে ফিরে প্রেমবাজারে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় কালো পোশাক ও মুখে কালো মাস্ক পরা চার ব্যক্তি সেখানে আসেন। তাঁদের মধ্যে দুজন দোকানে ঢুকে এহসানকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান এবং বাকি দুজন বাইরে অবস্থান করেন। তাঁদের পোশাকে ব্যবহৃত এসআরবির লোগোটি ভুয়া ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ব্যবসায়ীকে প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পুঁইছড়ির প্রেমবাজার থেকে পেকুয়া উপজেলার টৈটং হাজী বাজারে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে আরেকটি অটোরিকশায় করে চকরিয়ার বরইতলী নতুন রাস্তার মাথার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অপহরণকারীরা পুঁইছড়িতে কীভাবে এসেছিলেন এবং তাঁকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। এহসানের চাচাতো ভাই জসিম উদ্দিন জানান, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে এসআরবি পরিচয়দানকারীরা প্রকৃত সদস্য নন। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে তাঁকে নিয়ে গেছে তা তাঁরা জানেন না এবং দ্রুত তাঁর সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন দাবি করেছেন। নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও আইনি সহায়তার দাবিতে রোববার বিকেলে প্রেমবাজারে ‘পুঁইছড়ি নিউ জেনারেশন সোসাইটি’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন পালিত হয়। বাঁশখালী থানা-পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশার চালকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাঁরা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এসআরবির পরিচয় ব্যবহারকারীরা সংস্থার প্রকৃত সদস্য নন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, ব্যবসায়ীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পেকুয়ার নেজাম উদ্দিন প্রকাশ নেজু (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁর হদিস মেলেনি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ