জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচি না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমি কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে দলটির নেতারা এই প্রতিক্রিয়া জানান। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছে না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির শিক্ষাবিদ আব্দুস সবুর ফকির বলেন, যাদের রক্তের বিনিময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের স্মরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, বেতার বা সংবাদ সংস্থাগুলোতেও জুলাই আন্দোলন কিংবা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গণহত্যা নিয়ে কোনো বিশেষ আয়োজন নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার জুলাইয়ের ইতিহাসকে আড়াল করে আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক পথ প্রশস্ত করতে চাইছে কিনা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে এবং সরকার রাষ্ট্র সংস্কার ও গণহত্যার বিচারে আন্তরিক নয়।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত অনেক শহীদের পরিবারের সদস্যরা এখনো জানেন না তাদের স্বজনদের কোথায় দাফন করা হয়েছে। তিনি গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই রায় শহীদদের সঙ্গে উপহাসের শামিল। তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। তিনি দ্রুত বকেয়া পরিশোধ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান। এর আগে আব্দুস সবুর ফকিরের নেতৃত্বে জামায়াত নেতারা শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে নেতারা গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান।



0 মন্তব্যসমূহ