গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কেবল কাঠামোগত সংস্কার যথেষ্ট নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিগত দুই বছর ধরে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার পরও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের দুর্বল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলীয় আনুগত্য, ভয়ের সংস্কৃতি এবং বিরোধীদের প্রতি প্রতিহিংসার রাজনীতি গভীরভাবে গেড়ে বসেছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে কেবল আইনের পরিবর্তন কোনো স্থায়ী সমাধান দেবে না। বিশেষ করে সরকারি সেবা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী এ প্রসঙ্গে জানান, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে বিজয়ীদের উদারতা এবং পরাজিতদের নিরাপত্তার ওপর। প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও রিকনসিলিয়েশন বা সমঝোতার মাধ্যমেই বৈশ্বিক পর্যায়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণ সফল হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি একজন প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর এলাকার বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং যেখানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়েছে, তা আমাদের দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোরই বহিঃপ্রকাশ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এবং একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও প্রতিহিংসার পথ পরিহার করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য আইন মানার অভ্যাস এবং বিরোধী মত সহ্য করার মানসিকতা গড়ে তোলা অপরিহার্য বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে কেবল আইনের পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত রূপান্তর ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।



0 মন্তব্যসমূহ