রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জুলাই জাদুঘর দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ ও শহীদ পরিবার। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তি।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ আগস্ট জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচে তা পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা জানান, সংস্কৃতিসচিব কানিজ মওলা সম্প্রতি এক সভায় জাদুঘরের নিয়োগবিধিতে পরিবর্তনের কথা বলেছেন। আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হওয়া একটি আইনে পরিবর্তনের অধিকার একজন আমলা কোথায় পেলেন? তাদের দাবি, এই বিলম্বের পেছনে অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, জুলাই জাদুঘর কোনো সাধারণ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি সফলভাবে সচল রাখতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা এই জাদুঘরের রূপরেখা ও নকশা তৈরিতে পরিশ্রম করেছেন, তাদেরকেই এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত রাখতে হবে। প্রশাসনিক অসহযোগিতার মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাদুঘর উন্মুক্ত করা, যোগ্য ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বিশেষায়িত নিয়োগ নিশ্চিত করা, ষড়যন্ত্রকারীদের জবাবদিহি ও শাস্তি নিশ্চিত করা এবং উচ্চ প্রযুক্তির সরঞ্জাম ও স্মারকের নিরাপত্তা প্রদান করা। দাবি আদায় না হলে কঠোর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
জুলাই জাদুঘর দ্রুত চালুর দাবিতে শাহবাগে সংবাদ সম্মেলন করেছে জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্স ও শহীদ পরিবার। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে তারা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



0 মন্তব্যসমূহ