প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই সফরে বাংলাদেশ ও চীন তাদের বিদ্যমান ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’ আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৭টি সমঝোতা স্মারক এবং প্রকাশিত যৌথ ঘোষণা ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও কৌশলগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সফরের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও মূল শহরে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ। এছাড়া কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ সম্মেলনে প্রায় ৮০টি শীর্ষ চীনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের ইতিবাচক সমর্থন এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র পর্যায়ে নিয়মিত সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ সম্পর্ককে কেবল বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিরাপত্তার দিকেও বিস্তৃত করছে। তবে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক সংযোগের মতো বিষয়গুলোতে বাস্তব অগ্রগতি ও জাতীয় স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে আগামীর মূল চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। ১৭টি সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছে দুই দেশ।



0 মন্তব্যসমূহ