সাঙ্গু নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া এক আদালতের সেরেস্তাদারের সন্তান রেজাওনুল ইসলাম গণি ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ১০৪তম স্থান অর্জন করে চূড়ান্তভাবে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বাঁশখালী উপজেলার প্রেমাশিয়া গ্রামের মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী নিজামুল হক বর্তমানে পটিয়া চৌকি আদালতে সেরেস্তাদার হিসেবে কর্মরত আছেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক নিজামুল হক ২০১৪ সালে নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে জন্মভূমি ছেড়ে চন্দ্রপুর গ্রামে আশ্রয় নেন এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের বাদুরতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। সীমিত আয় ও চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও তিনি সন্তানদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করেননি। রেজাওনুল ইসলাম গণি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড-২০২৪ অর্জন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০২৪-এর জন্য মনোনীত হন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষায় সারাদেশে প্রথম হয়েছিলেন। ১৭তম জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলেও তিনি মানিব্যাগে বন্ধুর ছবির পেছনে নিজের স্বপ্নের কথা লিখে রেখে নিরলস পড়াশোনা চালিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থেকে ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করেছেন। চার ভাইবোনের মধ্যে বড় ভাই আরিফুল ইসলাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে ফিন্যান্স বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, এক বোন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে এবং ছোট বোন কৃষ্ণকুমারী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন। সফলতার পেছনে মা-বাবার দোয়া ও কঠোর পরিশ্রমকে মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন রেজাওনুল ইসলাম গণি। অন্যদিকে সন্তানদের জন্য কোনো দালানকোঠা তৈরি করতে না পারলেও শিক্ষাকেই সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন বাবা নিজামুল হক। দায়িত্ব গ্রহণের পর সততা, সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নতুন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত রেজাওনুল ইসলাম গণি।
সাঙ্গু নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো সেরেস্তাদার নিজামুল হকের ছেলে রেজাওনুল ইসলাম গণি ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় ১০৪তম স্থান অর্জন করে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
-6acdd350304fd.webp)


0 মন্তব্যসমূহ