চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার শাহ আমানত সেতু গোলচত্বর এলাকায় বিআরটিএ ও আরটিসির অনুমোদনহীন শত শত অবৈধ যানবাহন চলাচল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সিএমপির ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তুহিন আহমেদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে এই অবৈধ সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াতকারী লাখ লাখ যাত্রীকে তীব্র যানজট ও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফিটনেস ও রুট পারমিটহীন অন্তত একুশ ধরনের হাজারো যানবাহন প্রধান সড়ক দখল করে স্ট্যান্ড পরিচালনা করছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আন্তঃজেলা বিলাসী কোস্টার, চেয়ার কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, ২০১১ সালে সাময়িক অনুমতির পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটগুলো এই অস্থায়ী ব্যবস্থাকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি-মেট্রো) সদস্য অলি আহমেদ স্পষ্ট করেছেন যে, এই রুটটি তাদের অনুমোদিত তালিকায় নেই। এদিকে বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক মোমিন খাঁনও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, টিআই তুহিন আহমেদ রুট পারমিটহীন গাড়ি চলার বিষয়টি স্বীকার করলেও মাসোহারা বা চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে সংযোগ কেটে দেন। এছাড়া গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এড়াতে ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সিএমপির ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জনবলসংকট ও সামগ্রিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন। এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ড. সিকান্দার খান, শিক্ষা শ্রম বন ও পরিবেশ রক্ষা সোসাইটির চেয়ারম্যান রিয়াজুদ্দিন রানা এবং জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ হোসাইনী এই অনিয়ম ও চাঁদাবাজির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতু গোলচত্বর এলাকায় রুট পারমিটহীন অবৈধ গাড়ি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চরম যানজটে পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
-6acb46f3f021c.webp)


0 মন্তব্যসমূহ