শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে আগামীকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার চট্টগ্রামের জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সার্বিক প্রস্তুতি তদারককালে এসব কথা বলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি জেএম সেন হলে গিয়ে মন্দির পরিদর্শন করবেন এবং সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। সেখানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগের পাশাপাশি তিনি আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, বিজিবিসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সংস্থা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন এবং নৃত্য ও গীতাপাঠের নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে পুরো জেলায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূজা উপলক্ষে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার আনসার সদস্য এবং পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া এসআরবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিয়োজিত রয়েছেন। প্রতিটি পূজামণ্ডপকে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিয়মিত বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। জেলা প্রশাসক আরও জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে যেকোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সর্বদা তাদের পাশে রয়েছে। এমনকি প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলোতেও পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চলতি দুর্গাপূজায় সরকারি অনুদান ও সহায়তা বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর সরকার চাল ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আর্থিকভাবে দুর্বল পূজামণ্ডপগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বাঁশখালীর প্রত্যন্ত জেলেপল্লিতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানকার মানুষের আন্তরিকতা তাঁকে গভীরভাবে অভিভূত করেছে। এ বছর পূজার সামগ্রিক আয়োজন এবং মানুষের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার নতুন পূজামণ্ডপ তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় ৪০০টি নতুন সর্বজনীন পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং এই উৎসবকে আরও আনন্দমুখর ও সফল করতে জেলা প্রশাসন ও পূজা উদ্যাপন কমিটি যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগামীকাল চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সফর ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ