গ্রামের খেতখামার থেকে শুরু করে শহরের কারখানা ও ফুটপাত পর্যন্ত সর্বত্রই গ্রামীণ নারীর গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। গবেষক মাহা মির্জা এবং নারী অধিকারকর্মী মারজিয়া প্রভার লেখা এক কলামে উঠে এসেছে যে, কৃষি ও শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর লেবার ফোর্স জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশের কৃষিতে এক কোটি ৩০ লাখ পুরুষের বিপরীতে এক কোটি ৭০ লাখ নারী যুক্ত রয়েছেন, যার ফলে কৃষিতে দীর্ঘদিন ধরেই নারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। গ্রামাঞ্চলে নারী কৃষক, খামারি, উদ্যোক্তা ও খেতমজুরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও ধান, পাট, আলু, সবজি এবং গবাদিপশুর সঙ্গে যুক্ত এই লাখ লাখ উৎপাদক নারী মূলধারার কৃষি ও অর্থনীতির আলোচনায় প্রায়শই উপেক্ষিত থাকেন। ক্ষুদ্রঋণের মূল গ্রহীতা এবং কিস্তির চাপ ও অত্যাচারের প্রধান ভুক্তভোগীও নারীরা। এছাড়া ভারতে কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনায় জমির নিবন্ধন পুরুষদের নামে থাকায় হাজার হাজার নারী কৃষকের আত্মহত্যার বিষয়টি গৃহবধূর আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর সুযোগ পেয়েছে সে দেশের সরকার। কলামে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মেগা প্রকল্প, বাণিজ্যচুক্তি, জলবায়ু তহবিল এবং করপোরেট সিন্ডিকেটের কারণে গ্রামীণ নারী ও পরিবারগুলো নানামুখী সংকটের মুখে পড়ছে। উচ্ছেদ হওয়া জনপদে কন্যাশিশুদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং বাল্যবিবাহের হার বৃদ্ধি পায়। মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে শূন্য শুল্কে বিদেশি ডেইরি ও পোলট্রি পণ্য আমদানির ফলে দেশীয় ক্ষুদ্র খামারি ও গ্রামীণ নারীরা তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। জলবায়ু তহবিলের অর্থ বা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কাঠামোগত এই সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না বলে কলামে উল্লেখ করা হয়েছে। সমাজ ও বাজারের এসব সংকটকে কেবল সাংস্কৃতিক বাইনারিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সামগ্রিক করপোরেট ও অর্থনৈতিক কাঠামোর আলোকে দেখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বাঁশখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মেগা প্রকল্প ও জনজীবন সম্পর্কিত আলোচনায় এসব বিষয় বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
গ্রামের কৃষি ও অর্থনীতিতে নারীদের অবদান ও বহুমুখী সংগ্রামের চিত্র উঠে এসেছে এক বিশ্লেষণে। বাজার ব্যবস্থা ও মেগা প্রকল্পের প্রভাবে গ্রামীণ নারীর জীবন কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।


0 মন্তব্যসমূহ