নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৈলগাঁওয়ে বিলাসবহুল বাড়ি, ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ এবং একাধিক মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য নিয়ে প্রথম পর্বের প্রতিবেদন প্রকাশের পর এবার সামনে এসেছে মো. রাজুর নামে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি চিঠি।
নতুন এই নথিতে উঠে এসেছে রোহিঙ্গা যুবককে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে চলমান একটি অনুসন্ধানের তথ্য।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, গত ১০ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে মো. রাজুর নামে চিঠিটি পাঠানো হয়। এতে ২৪ জুন সকাল ১১টায় অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
তবে চিঠিটি রাজুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগপত্র নয়। এতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ২ নম্বর নদনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে এক রোহিঙ্গা যুবককে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের কথা উল্লেখ রয়েছে।
দুদকের উপসহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা চিন্ময় চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত চিঠিতে ওই অভিযোগের অনুসন্ধানে রাজুর বক্তব্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, রোহিঙ্গা যুবকের জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত এই অনুসন্ধানে রাজুর কাছে কী তথ্য রয়েছে? কেনই বা তাঁর বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেছে দুদক? নির্ধারিত দিনে তিনি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার সামনে হাজির হয়েছিলেন কি না, সেটিও জানা যায়নি।
এর আগে প্রথম পর্বের প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০২২ সালে বগুড়া এবং ২০২৩ সালে রাজশাহীতে ইয়াবাসহ রাজুর গ্রেপ্তারের তথ্য। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মে মাসেও একটি মাদক মামলার পরোয়ানায় তাঁর গ্রেপ্তারের তথ্য সামনে আসে।
পাশাপাশি বাঁশখালীর বৈলগাঁওয়ে তাঁর বিলাসবহুল বাড়ি ও সম্পদের উৎস নিয়েও স্থানীয়রা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রথম প্রতিবেদনের বিষয়ে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
এখন দেখার বিষয়, দুদকের ওই অনুসন্ধানে রাজুর বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছিল কি না এবং রোহিঙ্গা যুবকের জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।
বাঁশখালীর বৈলগাঁওয়ের মো. রাজুর কাছে রোহিঙ্গা যুবকের জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত অনুসন্ধানে বক্তব্য চেয়েছিল দুদক। নোয়াখালীর এক ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে পাঠানো চিঠির অগ্রগতি এখনও অজানা।



0 মন্তব্যসমূহ