চট্টগ্রাম নগরের জাকির হোসেন সড়কের ওয়্যারলেস এলাকায় প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রথম চলন্ত পদচারী-সেতুটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ঘটা করে উদ্বোধনের পর মাত্র দুই মাস সচল ছিল এই এসকেলেটর ফুটওভারব্রিজটি। বর্তমানে অযত্ন আর অবহেলায় সেতুটির সিঁড়ির ধাপ চুরি হয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট অংশে মরিচা ধরেছে। প্রবেশপথে তালা ঝুললেও ভেতরে জন্মেছে আগাছা এবং ছড়িয়ে আছে ভাঙা কাচ।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সূত্র জানায়, ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য আফছারুল আমীনের ইচ্ছায় এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। উদ্বোধনের দুই মাস পর করোনা মহামারির কারণে এটি বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিল ও সংযোগ জটিলতায় এটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোটি এখন অভিভাবকহীন। স্থানীয় রিকশা মেকানিক মোহাম্মদ করিম জানান, গত এক-দুই বছরে সেতুর অনেক দামী যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার মজুমদার মনে করেন, ভুল জায়গায় স্থাপনের কারণে এটি জনগণের কাজে আসেনি। তিনি বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও অদূরদর্শী পরিকল্পনায় জনগণের বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত অবগত নন। তবে প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, ডায়াবেটিস হাসপাতালের রোগী ও পথচারীদের সুবিধার্থে এটি করা হলেও মানুষ এটি ব্যবহার করতে আগ্রহী নন। তিনি দ্রুতই সেতুর বর্তমান অবস্থার খোঁজ নেবেন বলে আশ্বাস দেন।
চট্টগ্রামে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রথম চলন্ত পদচারী-সেতুটি এখন পরিত্যক্ত। উদ্বোধনের মাত্র দুই মাস পর বন্ধ হয়ে যাওয়া এই সেতুটির যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে এবং এটি এখন আগাছার দখলে।



0 মন্তব্যসমূহ