বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও এখনো নিখোঁজ ছয় জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। গত রবিবার রাতে গভীর সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ১১ জন জেলেসহ একটি ট্রলার ডুবে যায়। এদের মধ্যে পাঁচজন অন্য একটি ট্রলারের সাহায্যে জীবিত ফিরলেও বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগে দিন কাটছে স্বজনদের।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন— পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার তুলারাম গ্রামের এমাদুল খাঁ (৪৫), খরিদা গ্রামের হারুন (৪৫), দক্ষিণ ইছাদী গ্রামের ফোরকান সিকদার (৫৫), তার ছেলে সায়েম (২০), আল-আমিন (২২) এবং পক্ষিয়া গ্রামের আক্কাস (২৫)।
উদ্ধার হওয়া ট্রলার মালিক এমাদুল সিকদার জানান, ট্রলারটি উল্টে যাওয়ার পর ভেতরে আটকে পড়া জেলেদের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু উত্তাল ঢেউ ও তীব্র স্রোতের কারণে তাদের বের করা সম্ভব হয়নি। তিনিসহ আটজন ট্রলারের পাখা ধরে প্রায় ছয় ঘণ্টা ভেসে থাকার পর অন্য একটি ট্রলার পাঁচজনকে উদ্ধার করে। আরেক উদ্ধার হওয়া জেলে বায়েজিদ জানান, হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। তারা বয়া ও ট্রলারের ভাঙা অংশ ধরে দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে ছিলেন।
এদিকে, নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় জেলেরা সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। কুয়াকাটা নৌ-পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান জানান, উদ্ধার অভিযান সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, নিখোঁজদের পরিবারকে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ৭ হাজার ৫০০ টাকা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং দ্রুত উদ্ধারে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমানে সাগর উত্তাল থাকায় এবং ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত চলায় উদ্ধার তৎপরতা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এ ঘটনায় ট্রলার মালিকের বাবা মো. ইদ্রিস সিকদার গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির দুই দিন পার হলেও এখনো নিখোঁজ ৬ জেলে। উত্তাল সাগরে কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের উদ্ধার অভিযান চলছে। শোকাতুর পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।



0 মন্তব্যসমূহ