শনিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিশাল এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় প্রায় ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে অনেক প্রধান সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। এই আকস্মিক জলাবদ্ধতায় জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে সকালে অফিসগামী যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ছিল চরমে, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। রাস্তায় গণপরিবহন সীমিত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সূচকে বাসযোগ্যতায় বিশ্বের তলানিতে থাকা ঢাকার এই পরিস্থিতির পেছনে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে। একসময় ঢাকার পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রাকৃতিক থাকলেও বর্তমানে খাল ও জলাশয় দখল এবং দূষণের কারণে তা অকেজো হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত বছরগুলোতে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও তার সুফল নগরবাসী পায়নি। একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রামেও, যেখানে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সত্ত্বেও টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
বর্তমানে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মেয়রশূন্য থাকায় এবং প্রশাসক দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় কেবল রুটিন কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নাগরিকদের সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া এই পাহাড়সম সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। নদী ও খালকে কেন্দ্র করে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি করা না হলে বিচ্ছিন্ন ও সমন্বয়হীন প্রকল্পগুলো কেবল অর্থের অপচয়ই ঘটাবে।
ভারী বৃষ্টিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও সমন্বয়হীনতায় বাড়ছে নগরবাসীর দুর্ভোগ।



0 মন্তব্যসমূহ