ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তারাপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের উপস্থিতিতে এই হামলা হয়। এতে অন্তত চারজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন মো. শাহীন খন্দকার, মো. জসিম, মো. শাহাদাত হোসেন ও ইমরান হোসেন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাসান জানান, আহতদের মধ্যে একজনের পায়ের জখম বেশ গুরুতর।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এনসিপি এই পদযাত্রার আয়োজন করে। সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রাটি তারাপুর ঈদগাহ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান। নাবিলা তাসনিদের বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ মঞ্চের সামনে বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি নেতাকর্মীরা সাভার মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সহায়তায় এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এদিকে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এর আগে বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জে এক কর্মসূচিতে নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে সংস্কারের পক্ষে জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণে ৪ জন আহত হয়েছেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের উপস্থিতিতে ঘটা এই হামলার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি।


0 মন্তব্যসমূহ