বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার লক্ষ্যে গবেষণার স্বাধীনতা নাকি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বেশি জরুরি, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকার আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির লক্ষ্যে গবেষণা অনুদান সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার যুক্তি থাকলেও শিক্ষাবিদদের আশঙ্কা, এর ফলে গবেষণা কার্যক্রম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়বে এবং একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন সংকুচিত হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের গবেষণার চিত্র ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। স্কোপাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশের গবেষকরা ১৫ হাজার ৪১৩টি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে উল্লেখযোগ্য গবেষণা প্রকাশ করছে। তবে এই অগ্রগতির মধ্যেই গবেষণা কাঠামোকে কেন্দ্রীভূত করার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, গবেষণা কোনো প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং এটি একটি একাডেমিক কার্যক্রম।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক মনে করেন, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক নির্দেশে নয়, বরং গবেষণার স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা ও পর্যাপ্ত বিনিয়োগের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে অর্থদাতা সংস্থা জবাবদিহি নিশ্চিত করলেও সরাসরি গবেষণা পরিচালনা করে না। বাংলাদেশেও ইউজিসির ভূমিকা গবেষণার মান নিশ্চিত ও মূল্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
ইউজিসির মাধ্যমে পরিচালিত 'হিট' প্রকল্প নিয়ে শিক্ষকদের অসন্তোষ এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার উদাহরণ টেনে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গবেষণা একটি সময়ের লড়াই। অতিরিক্ত প্রশাসনিক স্তর এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণায় ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও, সেই অর্থ ব্যবহারের প্রক্রিয়া গবেষকবান্ধব হওয়া প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন নির্ভর করবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সন্দেহের পরিবর্তে সক্ষমতার চোখে দেখার ওপর।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার স্বাধীনতা নাকি ইউজিসির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।



0 মন্তব্যসমূহ