চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদে এক যুবককে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হাসেম (৪৪) পশ্চিম ভুজপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষক। অভিযোগ উঠেছে, তাকে জোরপূর্বক ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং সবার সামনে মৌখিকভাবে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।
মোহাম্মদ হাসেম জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এর জেরে পরের দিন কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গিয়ে লাঞ্ছিত করেন এবং কান ধরে ওঠবস করান। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য শাসাচ্ছেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ইব্রাহিম জানান, উত্তেজিত জনতা ওই যুবককে পরিষদে নিয়ে এসে এমন কাজ করিয়েছেন। পরিস্থিতির কারণে তিনি ও অন্যরা তখন নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এস এম শাহজাহান শিপন জানান, ঘটনার সময় তিনি উপজেলা সদরে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে তিনি জানতে পেরেছেন যে, ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে স্থানীয় লোকজন ওই যুবকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা তওহিদ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, মতপ্রকাশের কারণে কাউকে এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করা মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পরিপন্থী। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবহিত ছিলেন না। ভুক্তভোগী প্রতিকার চেয়ে আবেদন করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে ফেসবুকে ভিডিও দেওয়ায় এক যুবককে ইউনিয়ন পরিষদে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ