উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এ বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই পরীক্ষার ফরম পূরণ করেননি, যা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গত বছরের তুলনায় এবার অনুপস্থিতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রথম দিনে ১৫ হাজার ২০৩ জন এবং ২০২৩ সালে ৫ হাজার ৫২২ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১৭ হাজার ২৩৩ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৩ হাজার ৭৩ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেননি। এছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সারা দেশে ৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পরিস্থিতিকে একটি খারাপ ইন্ডিকেটর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এবার মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ, কারিগরিতে ৫৪ শতাংশ এবং সাধারণ বোর্ডে ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অভাব এবং পরীক্ষার কড়াকড়ি এর কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ছিটকে পড়ার কারণগুলো অনুসন্ধান করা জরুরি। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে বিশাল এক জনগোষ্ঠী অদক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটের মাধ্যমে এই ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে একটি গবেষণা চালানো হবে।
এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে প্রায় ২৫ হাজার পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ৩৬ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী ফরম পূরণ না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞরা।



0 মন্তব্যসমূহ