বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থা অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে।
সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন এবং শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি। প্রশাসনের বিভিন্ন পদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, সচিব ও সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে ৬৭ জন এবং অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে ১০ জন অতিরিক্তসহ ৩৭৮ জন কর্মরত আছেন। এছাড়া যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
বিসিএস পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার বিষয়ে সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে মো. আব্দুল বারী বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সরকার কাজ করছে। ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগলেও ৪৭তম বিসিএসে তা কমিয়ে ১ বছর ৭ মাসে আনা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ৫০তম বিসিএস থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে সারা দেশে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ৮ হাজার ৯৯টি শূন্য পদ রয়েছে। এসব পদ পূরণে এবং বেকারত্ব দূর করতে মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে ৪৫, ৪৬, ৪৭ ও ৫০তম বিসিএসের কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হলে দ্রুত শূন্যপদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহায়তাকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ পূরণ ও বিসিএসের দীর্ঘসূত্রতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ