জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে চিনি ও পাটকলসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরকারি উদ্যোগে পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটি। আজ ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক কাইয়ুম হোসেনের সভাপতিত্বে এবং আহ্বায়ক কামরুজ্জামান ফিরোজের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক কমরেড টিপু বিশ্বাস, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম এবং জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শামীম ইমাম। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য কর্পোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন, আইয়ুব আলী, দেলোয়ার হোসেন, বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির এস.এম শুভ, জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৈমুর খান অপু এবং চাষী নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো পুনরায় সচল করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের জোর দাবি জানান। তারা চিনি শিল্পে বিদ্যমান দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। চিনিকলগুলোর আধুনিকায়ন এবং আখের ক্রয়মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, আখ চাষীদের শিল্প ঋণের পরিবর্তে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ প্রদান করতে হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান শ্রমিক নেতারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে শ্রমজীবী মানুষ কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। কর্মসূচি অনুযায়ী, জুলাই মাসজুড়ে চিনিকলগুলোতে শ্রমিক সমাবেশ ও গণসংযোগ এবং আগামী ১০ আগস্ট ঢাকায় বড় ধরনের শ্রমিক সমাবেশ সফল করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
বন্ধ ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিনিকল ও পাটকল রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ ও দুর্নীতির তদন্ত দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।



0 মন্তব্যসমূহ