দেশের গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ বিভাগে জরুরি চিঠি দিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। একইসঙ্গে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন চারজন সংসদ সদস্য।
আরইবির তথ্যমতে, বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত জুনের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারা দেশে হওয়া ২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের মধ্যে ৯৬ শতাংশই ছিল গ্রামাঞ্চলে। আরইবির অধীন ৮০টি সমিতির গ্রাহকরা ১৭ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছেন। তীব্র গরম, চলমান বিশ্বকাপ ফুটবল এবং আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ না থাকায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল বারী সরদার এবং ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর। তারা নিজ নিজ এলাকার হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান।
এদিকে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও ঢাকার দোহারে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। আরইবি জানিয়েছে, ১০ জেলার ১৪টি স্থানে কর্মকর্তাদের মারধর ও অফিস ভাঙচুরের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। তবে উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম মনে করেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণে বৈষম্য কমানো এবং বকেয়া বিল পরিশোধ করে উৎপাদন বাড়ানো জরুরি।
গ্রামে ১২-১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রাহকদের ক্ষোভ ও হামলা এড়াতে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। আরইবি ও এমপিদের চিঠিতে দ্রুত সংকট নিরসনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ