চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সরকারি বনভূমি দখল করে তৈরি করা অবৈধ বসতঘর উচ্ছেদ করতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার হামলার মুখে পড়েছেন বন বিভাগ ও পুলিশের সদস্যরা। এই ঘটনায় বন বিভাগের পাঁচ কর্মী এবং পুলিশের এক কনস্টেবলসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শীলকূপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার করলাশিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হক হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সরকারি বনভূমি দখল করে ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দিচ্ছে। সম্প্রতি মো. নজরুল ইসলাম কালু নামের এক ব্যক্তি বনভূমি দখল করে একটি বসতঘর নির্মাণ করেন। এই সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে যায়। অভিযান চলাকালে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. লেয়াকত আলী এবং মো. নজরুল ইসলাম কালুর নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা, দা-কিরিচ ও ইটপাটকেল নিয়ে বনকর্মী ও পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালান। হামলায় আহত বনকর্মীরা হলেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫) এবং শামসুল আলম (৪৫)। এছাড়া একজন পুলিশ কনস্টেবলও আহত হয়েছেন। বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ইসরাঈল হক জানান, সংরক্ষিত বনের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু দখলদার চক্রটি সরকারি কাজে বাধা দিয়ে তাদের টিম ও পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে তাদের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলমান রয়েছে।
বাঁশখালীতে বনভূমি দখল উচ্ছেদ করতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার হামলায় পুলিশ ও বন বিভাগের ছয় কর্মী আহত হয়েছেন।



0 মন্তব্যসমূহ