Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

কোটি টাকার জমি দখলের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে বাঁশখালীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

কোটি টাকার জমি দখলের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে বাঁশখালীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

মো: হারুন চৌধুরী:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল ও আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সংবাদকর্মীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভাঙচুর, ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া, লাঠি দিয়ে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের জঙ্গল গুনাগরী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ছালেহ নুর ও নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন দৈনিক মেহেদী পত্রিকার বাঁশখালীর ফটোসাংবাদিক মোহাম্মদ সজীব চৌধুরী। অভিযুক্ত দুজন একই এলাকার মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। তাঁরা এর আগে আলোচিত জমি দখলের অভিযোগেও অভিযুক্ত হন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের মে মাসে বাঁশখালীর কালীপুর ইউনিয়নের জঙ্গল গুনাগরী মৌজায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকায় ২৬ শতাংশ বা প্রায় ১৩ গণ্ডা জমি কেনেন মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ ইকবাল, কামরুল হাছান ও কামরুল ইসলাম। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাশের জমির মালিক ছালেহ নুর ও নুরুল আবছারসহ তাঁদের পক্ষের লোকজন নিজেদের ক্রয়কৃত জমির সীমানা অতিক্রম করে ওই ১৩ গণ্ডা জমি দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন।

বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন জমির ক্রেতারা। আদালতের নথি অনুযায়ী, দেওয়ানি মামলা নম্বর ২৮৬/২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিরোধীয় জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতের ওই আদেশ প্রতিপালনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে জমির ক্রেতাদের অভিযোগ, আদালতের আদেশের পরও বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগও রয়েছে অভিযুক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে।

এমন পরিস্থিতিতে আদালতের আদেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চলার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনাস্থলে যান সংবাদকর্মীরা।

থানার ওসি বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে সাংবাদিক সজীব চৌধুরী উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন দুপুরে দৈনিক মেহেদী পত্রিকার চিফ রিপোর্টার মো: মনছুর আলম তাঁকে বিরোধীয় জমিতে আদালতের আদেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চলার অভিযোগ সম্পর্কে জানান। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি অন্য সংবাদকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই ছালেহ নুর সজীব চৌধুরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ছুড়ে মেরে ভেঙে ফেলেন। মোবাইল ফোনটির আনুমানিক মূল্য ১৪ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

একই সময় নুরুল আবছার সংবাদকর্মী মোহাম্মদ মাহিমের হাতে থাকা Canon EOS 250D মডেলের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ক্যামেরাটির আনুমানিক মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা লাঠি দিয়ে সংবাদকর্মীদের এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান।

আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা অন্য সংবাদকর্মীদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রায়হান জান্নাত নামের এক সংবাদকর্মীকে পোশাক ধরে টানাহেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সজীব চৌধুরী। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আহত সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারী জানান, ঘটনার পর তাঁরা চিকিৎসার জন্য বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। অভিযোগপত্রে চিকিৎসার কাগজপত্র সংযুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছিনিয়ে নেওয়া ক্যামেরা উদ্ধার, হামলার ঘটনার তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, জমি দখলের অভিযোগে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা এবং বিরোধীয় জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ থাকার মধ্যেই সাংবাদিকদের ওপর হামলার নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। এতে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, উভয় বিষয়েই অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। থানায় দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ কার্যকর করা, সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এখন সামনে এসেছে।

সংক্ষেপে:
বাঁশখালীতে কোটি টাকার জমি নিয়ে আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ। মোবাইল ভাঙচুর, ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ।
কোটি টাকার জমি দখলের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে বাঁশখালীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ