নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশের পরও কোটি টাকা মূল্যের জমি জোরপূর্বক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও নির্মাণকাজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ছালেহ নুর ও নুরুল আবছারসহ আরফাতুল ইসলাম, ইসফাকুল ইসলাম ও ইসমামুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন জমির মালিকানা দাবিকারী পাঁচ ক্রেতা।
দলিল সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাসে বাঁশখালীর কালীপুর ইউনিয়নের জঙ্গল গুনাগরী মৌজায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকায় ২৬ শতাংশ বা প্রায় ১৩ গণ্ডা জমি ক্রয় করেন মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন, মো. সেলিম, মো. ইকবাল, কামরুল হাছান ও কামরুল ইসলাম।
জমির বিক্রেতারা হলেন সঞ্জীত ভট্টাচার্য, প্রদীপ ভট্টাচার্য, দিলীপ ভট্টাচার্য, লিটন ভট্টাচার্য ও অমল ভট্টাচার্য। জমি বিক্রির ক্ষেত্রে আমমোক্তার হিসেবে ছিলেন মোহাম্মদ রহিম ও বেলাল উদ্দিন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এর অনেক আগেই বিরোধীয় জমির পাশে প্রায় এক কানি জমি ক্রয় করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, নিজেদের ক্রয়কৃত জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে গিয়ে সীমানা অতিক্রম করে তাঁদের কেনা ১৩ গণ্ডা জমিও দখলে নেয় বিবাদীপক্ষ। এরপর ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ছালেহ নুর ও নুরুল আবছার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখল ও নির্মাণকাজ পরিচালনা করছেন। জমির ক্রেতারা বাধা দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের আশ্রয় নেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দেওয়ানি মামলা নম্বর ২৮৬/২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিরোধীয় জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ওই আদেশ প্রতিপালনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন আদালত।
কিন্তু বাদীপক্ষের দাবি, আদালতের নির্দেশনার পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। বরং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ উপেক্ষা করে বিবাদীপক্ষ স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ এবং তা বাস্তবায়নে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়ার পরও বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকার অভিযোগ কেন উঠছে? আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে?
এদিকে জমি বিক্রির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দলিলে উল্লিখিত আমমোক্তার বেলাল উদ্দিন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট জমি বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেন।
অন্যদিকে, জমি দখল, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগের বিষয়ে ছালেহ নুর ও নুরুল আবছারসহ অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
বর্তমানে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধটি আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যেই আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বাদীপক্ষের ক্রয়কৃত ১৩ গণ্ডা জমির সীমানা, বিবাদীপক্ষের আগে কেনা প্রায় এক কানি জমির অবস্থান এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা প্রকৃতপক্ষে কোন জমিতে রয়েছে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে আদালতের আদেশ প্রতিপালনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
তবে বিরোধপূর্ণ জমির চূড়ান্ত মালিকানা, সীমানা অতিক্রম করে দখলের অভিযোগ এবং আদালতের আদেশ অমান্যের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা প্রয়োজন।
এখন দেখার বিষয়, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং বিরোধীয় জমির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
বাঁশখালীর জঙ্গল গুনাগরীতে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকায় কেনা ১৩ গণ্ডা জমি দখল ও আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও নির্মাণের অভিযোগ পাঁচজনের বিরুদ্ধে। বাদীপক্ষের দাবি, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করেই কাজ চলছে।



0 মন্তব্যসমূহ