নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১০ নম্বর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী। তৃণমূলের উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়বিচারভিত্তিক ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছেন।
অ্যাডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী বাঁশখালীর ১০ নম্বর চাম্বল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী আব্দুল গফুর সিকদার বাড়ির মরহুম রহমত উল্লাহ চৌধুরীর কনিষ্ঠ সন্তান।
ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত তিনি। চট্টগ্রাম সরকারি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটের (বর্তমান বাকলিয়া সরকারি কলেজ) ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ও চট্টগ্রাম শাখার সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি তিনি সোনালী ব্যাংক পিএলসির প্রধান শাখার প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার আগ্রহ প্রকাশ করে নাজমুল আলম চৌধুরী জানান, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তিনি তৃণমূলের উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং চাম্বল ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করতে চান।
দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক নির্দেশনা ও ভাবমূর্তির প্রতি আস্থা রেখে বিএনপির কাছে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়ে চাম্বল ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন, দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা ও তৃণমূলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অ্যাডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চাম্বল ইউনিয়নের মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত। নির্বাচন আসে নির্বাচন যায়, কিন্তু যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেন, তাদের সে আশা ও প্রত্যাশা পূরণ হয় না। একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের সেবা করা। কিন্তু নির্বাচন আসলে মিথ্যা আশা আর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা হয়। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলেই তাদের আর দেখা মিলে না, জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা করা তো দূরের কথা, নিজের আখের গোছানো নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।”
আইন পেশার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি ও সালিশি ব্যবস্থার বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
নাজমুল আলম চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘদিন আইনি পেশায় নিয়োজিত থেকে সাধারণ মানুষের বহু দুঃখ-দুর্দশা কাছ থেকে দেখেছি। গ্রামীণ জনপদে ভঙ্গুর বিচার ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় সামান্য ও ক্ষুদ্র বিষয়েও মানুষ মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে নিঃস্ব হন। একজন সৎ জনপ্রতিনিধি ইচ্ছা করলেই এসব ছোটখাটো সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধান করতে পারেন।”
স্থানীয় সালিশি ব্যবস্থায় অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমানে টাকা জমা নিয়ে সালিশি প্রথা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষ বিচার পাওয়ার বদলে নিভৃতে কাঁদে। বিচারক যখন বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেন, তখন তিনি কখনো ন্যায়বিচার উপহার দিতে পারেন না। এক্ষেত্রে যার টাকা ও আধিপত্য রয়েছে, সে-ই অনৈতিক সুবিধা পায়। সমাজ থেকে এসব অন্যায়ের মূল উৎপাটন করতে না পারলে জাতি কোনোদিন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সেবা পাবে না।”
তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত সালিশি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি মনে করেন, জনপ্রতিনিধিরা আন্তরিক হলে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো বিরোধের কারণে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না।
চাম্বল ইউনিয়নকে দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু নির্বাচিত হওয়া নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি চাম্বল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
এখন দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে তাঁর নির্বাচনী প্রার্থিতার পরবর্তী পদক্ষেপ।
বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন চান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজমুল আলম চৌধুরী। উন্নত নাগরিক সেবা, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।



0 মন্তব্যসমূহ