নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধানপুর ইউনিয়নের বৈলগাঁও এলাকায় জিন-জি ফকিরের মাজারের পাশে গড়ে ওঠা একটি বিলাসবহুল বাড়ি ঘিরে ইয়াবা ব্যবসার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটি শুধু বসবাসের জন্য নয়, বরং ইয়াবা চালানের নিরাপদ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবেও ব্যবহার করা হতো।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সরাইপাড়া এলাকার ফজল রহমানের ছেলে মো. রাজু। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি প্রায় কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আদালত।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবা সরবরাহের একটি রুটে রাজুর সম্পৃক্ততা রয়েছে। মাদক চালানের সুবিধার জন্যই প্রায় এক যুগ আগে তিনি বাঁশখালীতে বিয়ে করে এখানে অবস্থান তৈরি করেন বলে অভিযোগকারীরা জানান।
তাদের ভাষ্য, বৈলগাঁওয়ের বাড়িটি মাদক চালানের সুবিধাজনক অবস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বাড়ির চারপাশে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাও শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্ভাব্য অভিযানের আগাম খবর পেতে এবং প্রশাসনিক নজর এড়াতে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন বিষয়টি স্থানীয়দের অজানাই ছিল। কারণ, রাজুর বিরুদ্ধে ইয়াবা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো বাঁশখালীতে নয়, বগুড়া ও রাজশাহীর মতো দূরের এলাকায় হয়। তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৬ জুন বগুড়া সদর থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ আটক হয়ে মাদক মামলায় কারাগারে যান রাজু। এরপর ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর রাজশাহীর দামকুড়া থানা পুলিশের হাতেও ইয়াবাসহ আটক হয়ে কারাগারে যান তিনি।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩ মে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকা থেকে দামকুড়া থানার মামলার ওয়ারেন্টে রাজু গ্রেপ্তার হলে বাঁশখালীতে তার ইয়াবা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, দৃশ্যমান কোনো বড় ব্যবসা বা বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও কীভাবে রাজু বৈলগাঁও এলাকায় বিলাসবহুল বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হলেন। এলাকাবাসীর দাবি, তার সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, পূর্বের মাদক মামলার নথি, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং বাঁশখালীর বাড়ির ভূমিকা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা দরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, তারা আগে এসব বিষয় জানতেন না। পরে শুনেছেন, রাজু বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখন বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, দৃশ্যমান কোনো বড় ব্যবসা না থাকলেও এত বড় বাড়ি ও সম্পদ কীভাবে হলো—এ প্রশ্ন মানুষের মনে আছে।
সচেতন মহলের মতে, বাঁশখালীকে যদি কেউ মাদকের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে, তাহলে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যুবসমাজকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান প্রয়োজন।
স্থানীয় পর্যায়ে আরও অভিযোগ রয়েছে, আগের মামলাগুলোর পরও রাজু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. রাজুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত জানতে না চেয়ে ব্যস্ততার কথা জানান এবং পরে সরাসরি দেখা করে বক্তব্য দেবেন বলে বলেন।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূল ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলার তথ্য, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা, দৃশ্যমান আয়ের উৎস ছাড়া বিলাসবহুল বাড়ি ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, বাঁশখালীর বৈলগাঁওয়ের ওই বাড়ির প্রকৃত ভূমিকা কী, মো. রাজুর সম্পদের উৎস প্রশাসন খতিয়ে দেখবে কি না, এবং স্থানীয়দের অভিযোগ সত্য হলে কত দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বাঁশখালীর বৈলগাঁওয়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি ইয়াবা ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদের উৎস ও আগের মাদক মামলার তথ্য তদন্তের দাবি উঠেছে।



0 মন্তব্যসমূহ