চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী উচ্ছাস শিকদার পিএইচডি গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। নিজের টিউশনির টাকা জমিয়ে পড়াশোনার খরচ, আইইএলটিএস পরীক্ষা এবং বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ব্যয়ভার বহন করে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ বছরের পূর্ণ বৃত্তিতে ‘হিউম্যান গাট মাইক্রোবায়োটা’ বা মানুষের অন্ত্রে থাকা অণুজীব নিয়ে গবেষণা করবেন তিনি। তার এই গবেষণা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি শনাক্ত ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাসিন্দা উচ্ছাস শিকদার চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ে ৩.৯৬ সিজিপিএ অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই তিনি টিউশন করে নিজের খরচ চালাতেন। প্রতিদিন ল্যাবের কাজ শেষে টিউশন করে মাসে যে টাকা আয় করতেন, তার একটি অংশ তিনি পরিবারকে দিতেন এবং বাকিটা উচ্চশিক্ষার জন্য সঞ্চয় করতেন। ২০২৩ সালে তিনি জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্সেসে ইন্টার্নশিপও সম্পন্ন করেন।
উচ্ছাসের এই যাত্রাপথ ছিল অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ। ২০২৪ সালে তার বাবা কানু সিকদারের ক্যানসার ধরা পড়লে তাকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। অসুস্থ বাবার সেবাযত্ন, ল্যাবের কাজ এবং বিদেশে আবেদনের প্রস্তুতি তাকে একসাথেই সামলাতে হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্নাতকোত্তর পরীক্ষার চলাকালীন তার বাবার মৃত্যু হয়। প্রতিকূল এই সময়ে শিক্ষক, বন্ধু ও অনুজদের সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান উচ্ছাস। মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পাশাপাশি তিনি প্রতি মাসে ২ হাজার ৬৭৪ মার্কিন ডলার স্টাইপেন্ড পাবেন।
উচ্ছাস শিকদারের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক আদনান মান্নান তার এই অদম্য স্পৃহা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে বলেন, ব্যক্তিগত শোক ও প্রতিকূলতার মধ্যেও লক্ষ্য বিচ্যুত না হওয়ার এক অনন্য উদাহরণ উচ্ছাস। পড়াশোনা শেষ করে পুনরায় দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। বিদেশ যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি লক্ষ্য স্থির রেখে সঠিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
টিউশনির জমানো টাকায় পড়াশোনা ও আইইএলটিএস শেষ করে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন চবি শিক্ষার্থী উচ্ছাস শিকদার। ক্যানসার আক্রান্ত বাবার সেবা ও ল্যাবের কাজ সামলে তার এই অদম্য যাত্রা এক অনন্য অনুপ্রেরণা।


0 মন্তব্যসমূহ