ষাট দশকের সেই মায়াবী সন্ধ্যা আর হারিকেনের মৃদু আলোর স্মৃতিচারণ করেছেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শাহজালাল ফিরোজ। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের বাদলপাড়া গ্রামে কাটানো শৈশবের সেই দিনগুলো আজও তার হৃদয়ে অমলিন। রাঙামাটি নদীর তীরের সেই গ্রামে তখন বিদ্যুৎ ছিল না, সন্ধ্যার অন্ধকার দূর করার একমাত্র ভরসা ছিল বায়েজিদ মার্কা হারিকেন।
শাহজালাল ফিরোজ জানান, তাদের দোতলা টিনের ঘরে মা যখন হারিকেন জ্বালাতেন, তখন পুরো ঘর এক স্নিগ্ধ আলোয় ভরে উঠত। প্রতিদিন বিকেলে তিনি নিজ হাতে হারিকেনের কাচ পরিষ্কার করতেন। সন্ধ্যার পর মায়ের কাছে সীতানাথ বসাকের আদর্শলিপি পড়া, কয়লার গুঁড়া দিয়ে কালি বানিয়ে তালপাতায় লেখা আর রূপকথার গল্পের সেই দিনগুলো ছিল অনন্য। রাঙামাটি নদীতে জেলেদের হারিকেন জ্বালিয়ে ইলিশ ধরার দৃশ্য তাকে মুগ্ধ করত।
শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, ১৯৬৭ সালে চরামদ্দি ডব্লিউ কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে বরিশাল বিএম কলেজে ভর্তির পর তিনি প্রথম বিদ্যুতের আলো দেখেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে অবসর জীবনে থাকা এই লেখক ২০১৪ সালে গ্রামে গিয়ে নিজের সেই পুরনো মরিচা ধরা হারিকেনটি খুঁজে পান, যা তিনি আজও সযত্নে আগলে রেখেছেন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বদলে গেলেও শৈশবের সেই হারিকেনের আলো আজও তার মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
ষাট দশকের বরিশালের সেই হারিকেন জ্বলা সন্ধ্যার স্মৃতিচারণ করেছেন শাহজালাল ফিরোজ। বিদ্যুৎহীন গ্রামে বায়েজিদ হারিকেনের আলোয় কাটানো শৈশব ও ফেলে আসা দিনগুলোর এক আবেগঘন বর্ণনা ফুটে উঠেছে তার লেখায়।



0 মন্তব্যসমূহ