আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলটির পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে একটি বিশ্লেষণধর্মী চিত্র তুলে ধরেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে নির্বাসিত ৯১ জন স্বৈরশাসকের মধ্যে মাত্র ১৯ শতাংশ পুনরায় রাষ্ট্রপ্রধান হতে পেরেছেন এবং তাদের নির্বাসনের গড় সময় ছিল প্রায় সাড়ে ছয় বছর।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত কোনো দলের ফিরে আসা অনেকাংশেই পরবর্তী সরকারের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় চ্যালেঞ্জ দেখা দিলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের 'পলিটিক্যাল নস্টালজিয়া' তৈরি হতে পারে। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস লক্সটন ও স্কট মেইনওয়ারিংয়ের মতে, শুধু নতুন সরকারের ব্যর্থতাই কোনো দলের প্রত্যাবর্তনের নিশ্চয়তা দেয় না। এর জন্য প্রয়োজন দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কার, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং জনগণের আস্থা অর্জন করা।
আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের পাশাপাশি দলটির প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে পরিবার ও ব্যক্তি বড় ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে শক্তিশালী হওয়া জরুরি বলে মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্কট মেইনওয়ারিং ও টিমোথি আর স্কালি। এছাড়া ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টির সাথে আওয়ামী লীগের কোনো কৌশলগত সমঝোতা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদিও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অতীতে চরম শত্রুপক্ষকেও কৌশলগত কারণে জোটবদ্ধ হতে দেখা গেছে, তবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিশেষে, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তারা নতুন বাস্তবতার সঙ্গে কতটা খাপ খাওয়াতে পারবে এবং নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারবে কি না তার ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার রায় জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। শেষ পর্যন্ত জনগণের সমর্থন এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতিই দলটির রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
আওয়ামী লীগ কি আবার রাজনীতিতে ফিরতে পারবে? আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে দলটির ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।



0 মন্তব্যসমূহ