পঞ্চগড়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়ার স্ত্রী মেজর (অব.) কাজী মৌসুমী এবং জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নীলুফা ইয়াসমিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহবুব আলী মুয়াদ এই আদেশ প্রদান করেন। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মির্জা নাজমুল ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য মেজর (অব.) কাজী মৌসুমী ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নীলুফা ইয়াসমিন এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত শুনানি শেষে তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ জুন রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়ার খামারবাড়িতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। কাজী মৌসুমীর নেতৃত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ১২০ জন অংশ নেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। এই ঘটনায় ২০ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানায় ৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেন জানান, তারা আসামিদের শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে জামিন চেয়েছিলেন। কাজী মৌসুমী একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এবং তার একটি প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে নীলুফা ইয়াসমিন ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তবে আদালত সব দিক বিবেচনা করে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
পঞ্চগড়ে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়ার স্ত্রী কাজী মৌসুমী ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী নীলুফা ইয়াসমিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। উচ্চ আদালতের জামিন শেষে তারা আত্মসমর্পণ করেছিলেন।



0 মন্তব্যসমূহ