মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুর বনে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধানের পর অবশেষে দেখা মিলেছে বিরল প্রজাতির পাখি নীলডানা হরবোলার। গত ২৪ জানুয়ারি সকালে বনের ঘন পত্রগুচ্ছের আড়াল থেকে এই দুর্লভ পাখির ছবি তুলতে সক্ষম হন একদল গবেষক। ২০০৮ সালে মালয়েশিয়ার পেনাং বার্ড পার্কে প্রথমবার এই পাখিটি দেখার পর থেকেই বাংলাদেশে এর সন্ধানে ছিলেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১০ সালে পিএইচডি শেষ করে দেশে ফেরার পর থেকে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন চিরসবুজ বনে এই পাখির খোঁজ চালানো হয়। ২০১২ সাল থেকে মৌলভীবাজারের রাজকান্দি সংরক্ষিত বন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও পাখিটির দেখা পাওয়া যায়নি। অবশেষে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আদমপুর বিটে পাখিটির দেখা মিললেও প্রতিকূল আলোর কারণে ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি তরুণ পক্ষীবিদ আব্দুল মজিদ শাহ শাকিলকে সাথে নিয়ে পুনরায় আদমপুর বনে অনুসন্ধানে নামলে একটি বিশাল গাছের মগডালে নীলডানা হরবোলার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ক্লোরোপসিডি গোত্রের এই পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Chloropsis moluccensis। এটি মূলত চিরসবুজ ও পাতাঝরা বনের বাসিন্দা। নীলডানা হরবোলা লম্বায় ১৫.৮ থেকে ১৭.৭ সেন্টিমিটার এবং ওজনে ১৯ থেকে ২৮.৫ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। পুরুষ পাখির গলার নিচে কালো ও নীল রঙের ত্রিভুজাকার দাগ থাকলেও স্ত্রী পাখিটি মূলত সবুজ রঙের হয়। এরা সাধারণত গাছের মগডালে বিচরণ করে এবং ফুলের নির্যাস, ফল ও কীটপতঙ্গ খেয়ে জীবনধারণ করে। মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এদের প্রজননকাল এবং এদের গড় আয়ু চার বছরের বেশি।
দীর্ঘ এক যুগের প্রতীক্ষার পর মৌলভীবাজারের আদমপুর বনে দেখা মিলল দুর্লভ নীলডানা হরবোলা পাখির। চিরসবুজ বনের এই বিরল পাখির জীবনযাত্রা ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এই প্রতিবেদনে।



0 মন্তব্যসমূহ