বাংলাদেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যার মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু। এই অকাল মৃত্যু রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সম্মিলিত সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বেসরকারি সংস্থা ডিজাস্টার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ড্যাডো) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং ড্যাডোর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান। বাংলাদেশে এই সংখ্যা ১৮ হাজারের বেশি এবং অধিকাংশ ঘটনাই ঘটে সকাল আটটা থেকে বেলা একটার মধ্যে, যখন অভিভাবকরা কাজে ব্যস্ত থাকেন। ইদ্রিস আলম উল্লেখ করেন, ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
ড্যাডোর সভাপতি ব্যারিস্টার আফরোজা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন। সিডিএ চেয়ারম্যান পরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরির ওপর জোর দেন। উপাচার্য মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী শিশু সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। আনসার ও ভিডিপির পরিচালক আমিনুল ইসলাম এই পরিস্থিতিকে জাতীয় সংকট হিসেবে অভিহিত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ দেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে লাইফ সেভিং সোসাইটি চট্টগ্রাম আয়োজিত পৃথক এক সভায় দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বক্তারা শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং জাতীয় শিক্ষাক্রমে পানিতে নিরাপত্তা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন (অব.) ইফতেখার উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ বি এম জাইনূর রশিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. জাহেদুল ইসলাম, সরকারি স্যার আশুতোষ কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর কবির, নৌ প্রকৌশলী সাজিদ হোসেন এবং লাইফ সেভিং সোসাইটি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহ বাহারসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এই জাতীয় সংকট মোকাবিলায় চট্টগ্রামে আয়োজিত সেমিনারে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



0 মন্তব্যসমূহ