Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

২৩ বছর পেরিয়েও শেষ হয়নি চট্টগ্রামের আলোচিত বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন হত্যা মামলার বিচার

২৩ বছর পেরিয়েও শেষ হয়নি চট্টগ্রামের আলোচিত বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন হত্যা মামলার বিচার

চট্টগ্রামের আলোচিত ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন চৌধুরী অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি এর বিচারিক প্রক্রিয়া। দীর্ঘ এই সময়ে মুক্তিপণের টাকা প্রদান, কঙ্কাল উদ্ধার, সিঙ্গাপুরে ডিএনএ পরীক্ষা এবং পুলিশের ৯ জন কর্মকর্তার তদন্তের মতো নানা ঘটনা ঘটলেও ন্যায়বিচার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার। বর্তমানে মামলার বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছেড়ে দিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

২০০৩ সালের ২৪ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে অপহৃত হন দক্ষিণ জেলা বিএনপির তৎকালীন সহসভাপতি জামাল উদ্দিন চৌধুরী। অপহরণকারীরা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলে প্রশাসনের পরামর্শে পরিবার ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে। তবে তাকে জীবিত ফেরত পাওয়া যায়নি। অপহরণের প্রায় দুই বছর পর ২০০৫ সালে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক ইউপি সদস্য মো. শহীদুল ইসলামের দেওয়া তথ্যে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর পাহাড় থেকে জামাল উদ্দিনের কঙ্কাল উদ্ধার করে র‍্যাব। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

মামলার তদন্তে পুলিশের ৯ জন কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। সাড়ে তিন বছরের তদন্ত শেষে ২০০৬ সালে সিআইডি ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে এবং ২৪ জনকে অব্যাহতি দেয়। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আনোয়ারার তৎকালীন সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম ও তার ভাই মারুফ নিজামের নাম থাকায় বাদীর পক্ষ থেকে নারাজি আবেদন করা হয়। দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে ২০১৬ সালে পুনরায় বিচার শুরু হলেও গত আট বছরে মাত্র তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার বাদী ও নিহতের বড় ছেলে চৌধুরী ফরমান রেজা লিটন জানান, মূল আসামিদের বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারিয়েছেন। গত ৯ বছর ধরে তিনি আর আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন না। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকৃত খুনিদের আড়াল করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী নাজমা আক্তারও বর্তমান সরকারের কাছে পুনরায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আসামিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে মামলার ১৪ আসামির মধ্যে ১০ জন জামিনে, একজন কারাগারে এবং চারজন পলাতক রয়েছেন। সম্প্রতি ২০ বছর পর এ মামলার আসামি আবুল কাশেম ওরফে কাশেম চেয়ারম্যান কারাগারে গেছেন।

সংক্ষেপে:
চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের ২৩ বছর পার হলেও শেষ হয়নি বিচার। মুক্তিপণ দিয়েও মেলেনি প্রাণ, উল্টো তদন্ত থেকে মূল আসামিদের বাদ দেওয়ার অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আস্থা হারিয়েছে পরিবার।
২৩ বছর পেরিয়েও শেষ হয়নি চট্টগ্রামের আলোচিত বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন হত্যা মামলার বিচার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ