চট্টগ্রামে চলতি জুলাই মাসে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৬২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৫ শতাংশ বা ১৬৪ জনই শনাক্ত হয়েছেন জুলাইয়ের প্রথম ১৩ দিনে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৮ জন। গত শনিবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নগরের ৩৭০টি বাড়ির মধ্যে ২৭ শতাংশে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে উত্তর কাট্টলী, পাঁচলাইশ, জালালাবাদ, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ হালিশহর, পাথরঘাটা ও আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডকে "রেড জোন" হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এবারের ডেঙ্গুর ধরন বেশ ছদ্মবেশী। জ্বর কমার পরবর্তী তিন দিন রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী জানান, রোগীদের মধ্যে জ্বর, বমি ও নিম্ন রক্তচাপের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নগরের বায়েজীদ এলাকার বাসিন্দা মো. হৃদয় জানান, এলাকায় মশার উপদ্রব বাড়ার পর তিনি জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ৯৫ শতাংশ রোগী চট্টগ্রাম মেডিকেল ও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে ১০০ শয্যা এবং জেনারেল হাসপাতালে ২০ শয্যার বিশেষ ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রামে জুলাইয়ের প্রথম ১৩ দিনেই ১৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। নগরের ৮টি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সচেতনতা ও প্রতিকারে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।


0 মন্তব্যসমূহ