আষাঢ়ের শেষ সময়ে দেশজুড়ে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। এর ফলে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদী আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে কোনো নিম্নচাপ নেই, তবে এর প্রভাবে এবং বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক সক্রিয়তায় এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের আম বাগানে ২৭৭ মিলিমিটার। এছাড়া বান্দরবানে ২১০ মিলিমিটার, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২৩০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৭৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে বান্দরবানের সাঙ্গু নদ, কক্সবাজারের মাতামুহুরী নদী এবং হবিগঞ্জের খোয়াই নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানিও বিপৎসীমা পার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহের বাঁশবাড়ি কলোনি এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে টানা বৃষ্টিতে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের আয় কমে গেছে। রিকশাচালক আবদুল কাদির জানান, বৃষ্টির কারণে যাত্রী কম থাকায় তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে আগামী শনিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দেশজুড়ে টানা ভারী বৃষ্টিতে চার বিভাগে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ তিন নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে। শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।



0 মন্তব্যসমূহ