মফস্বলের শীতের সকালে দীর্ঘ দশ বছর পর নিজের পৈতৃক ভিটায় ফিরেছেন রোয়েনা। তিনতলা এই পুরোনো বাড়ির প্রতিটি কোণায় জড়িয়ে আছে তার শৈশবের নানা স্মৃতি। তবে রোয়েনার এই ফেরার আনন্দ ম্লান হয়ে যায় যখন তার বড় ভাই নাইম বাড়িটি একজন আবাসন ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাইম বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন এবং সেখানে তার ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক সংকট চলছে। তিনি তার বন্ধু ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী শাওনের মাধ্যমে এই পৈতৃক বাড়িটি ভেঙে একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। নাইমের দাবি, এতে পরিবারের সবার জন্য আলাদা ফ্ল্যাট থাকবে এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে। তবে এই প্রস্তাবের পেছনে নাইমের গোপন উদ্দেশ্য ছিল বিল্ডারের কাছ থেকে পাওয়া এক কোটি টাকা অগ্রিম নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত সংকট মেটানো।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন রোয়েনা ও তার চাচাতো ভাই নেহাল। তারা জানান, এই বাড়ির সাথে তাদের আবেগ ও মৃত বোন সোহানার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। নেহাল যুক্তি দেন যে, দাদার করা মজবুত ভিত্তির ওপর চাইলে তারা নিজেরাই ফ্লোর বাড়িয়ে নিতে পারেন, কিন্তু বিল্ডারকে জমি দিলে মালিকানা হারাবে পরিবার। অন্যদিকে, রোয়েনা সাফ জানিয়ে দেন যে কোনো অবস্থাতেই এই বাড়ি বিক্রি বা ভাঙতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তিনি নাইমের অংশটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। স্মৃতি ও ঐতিহ্যের টানে পৈতৃক ভিটা রক্ষায় রোয়েনার এই দৃঢ় অবস্থান পরিবারের অন্য সদস্যদেরও আবেগপ্রবণ করে তোলে।
পৈতৃক ভিটা রক্ষায় অনড় রোয়েনা। আবাসন ব্যবসায়ীর হাতে স্মৃতিবিজড়িত পুরোনো বাড়ি তুলে দেওয়ার ভাই নাইমের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন তিনি। আবেগ আর ঐতিহ্যের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার জয় হবে?



0 মন্তব্যসমূহ