জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা চলাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। শনিবারের এই অধিবেশনে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘হাল জামানার মুফতি’ হিসেবে অভিহিত করে তার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ফতোয়া নেওয়ার জন্য এখন আর মাদরাসায় যাওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না, বরং সংসদ থেকেই ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বীনি শিক্ষার প্রাথমিক জ্ঞান না রাখলেও ফতোয়া দিচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে হলে দলটির শত বছরের ইতিহাস পড়ার পরামর্শ দেন তিনি। হাটহাজারী, পটিয়া বা লালবাগ মাদরাসার পরিবর্তে সংসদকেই ফতোয়ার উৎস হিসেবে ব্যবহারের বিদ্রূপাত্মক ইঙ্গিত দেন এই সংসদ সদস্য।
শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের কড়া জবাব দেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি জামায়াত নেতাকে নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ড বিচার করার আহ্বান জানান। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিতর্কিত ভূমিকা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পাশাপাশি একাত্তরের ইতিহাসকেও কোনোভাবে ভুলে যাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা বৃদ্ধির জন্য জোরালো দাবি উত্থাপন করেন। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সংসদ অধিবেশনে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরী। পাল্টা জবাবে ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিলেন সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।



0 মন্তব্যসমূহ