আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটের সাথে না গিয়ে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের সাংগঠনিক ভিত্তি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এমন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোট বিভাজনের কারণে কিছু আসনে জয়ের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও দেখছে দলটি।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের মাত্র এক বছরের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয়লাভ করেছিল এনসিপি। সেই সাফল্যের পর এখন দলটি তাদের সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুসংগঠিত করার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমানে সারা দেশে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কমিটি গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, নির্বাচনের আগের তুলনায় বর্তমানে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেক বেশি গতিশীল। তৃণমূলের কাঠামো সম্পর্কে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় দলের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, সেখানে নতুন করে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো কমিটিগুলোর কর্মক্ষমতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনের স্বার্থে ওয়ার্ড পর্যন্ত রাজনৈতিক তৎপরতা তৈরি হবে, যা দলকে শক্তিশালী করবে। তবে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার কারণে কিছু জায়গায় জয়ের পথে বাধা আসতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থাকায় জোট গঠনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। এছাড়া দলের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এনসিপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আসিফ মাহমুদ আরও জানান, অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি দলে যোগ দিতে চাইলেও বিতর্কিত কাউকে নেওয়া হচ্ছে না, যাতে স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে দলের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতেই এই কৌশল নিয়েছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন দলটি।



0 মন্তব্যসমূহ