বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এর প্রথম ‘ইয়াং আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত ২৮ জন উদীয়মান তরুণ বিজ্ঞানীর এই বিশেষ তালিকায় তিনি অন্যতম। আগামী দিনের বিজ্ঞানকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখা গবেষকদের নিয়ে এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।
তনিমা তাসনিম অনন্যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র হলো মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বস্তু ‘সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল’ বা অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর। তিনি মূলত অনুসন্ধান করেন কীভাবে এই বিশালাকার ব্ল্যাকহোলগুলো পুরো গ্যালাক্সি বা ছায়াপথকে প্রভাবিত করে।
অনন্যার গবেষণায় উঠে এসেছে যে, যেসব ব্ল্যাকহোল দ্রুত পদার্থ গ্রাস করে সেগুলো ‘অ্যাকটিভ গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস’ (AGN) তৈরি করে। এগুলোর চারপাশে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল আবরণ বা ‘টোরাস’-এর কারণে ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্র দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত রশ্মি এবং এক্স-রে পর্যবেক্ষণের সমন্বয়ে এই জটিল রহস্যের সমাধান খুঁজছেন। তার মতে, ব্ল্যাকহোল এবং ছায়াপথ সম্ভবত একসঙ্গেই বিবর্তিত হয়।
ঢাকায় বেড়ে ওঠা অনন্যার বিজ্ঞানী হওয়ার পেছনে রয়েছে এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প। মাত্র পাঁচ-ছয় বছর বয়সে মায়ের মুখে ‘মার্স পাথফাইন্ডার’ মিশনের সফলতার খবর শুনে মহাকাশ নিয়ে তার কৌতূহল জাগে। শৈশবে ঢাকার লোডশেডিংয়ের সময়গুলোতে আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে থাকার মুগ্ধতাই তাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তনিমা তাসনিম অনন্যার মতো তরুণ বিজ্ঞানীদের হাত ধরেই আগামী দিনে মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এর সেরা তরুণ বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা। সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল নিয়ে তার অনন্য গবেষণা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।



0 মন্তব্যসমূহ