দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত বুধবার প্যারিসের হোটেল রয়ালে এই ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে ইরান পুনরায় শত শত কোটি ডলারের তেল বিক্রির সুযোগ পেতে যাচ্ছে, যা দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, বহু বছর ধরে জব্দ থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদও ফেরত দেওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অর্থ ছাড় দেওয়া হবে কেবল ইরানের ‘ভালো আচরণের’ ওপর ভিত্তি করে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করলেও বর্তমান সমঝোতা স্মারকটি সেই কঠোর অবস্থানের বিপরীত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস বা জ্বালানি তেলের সংকট দেখতে চান না। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হার্বাট হুবারের আমলের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের মজুত ফুরিয়ে যেত। ইরানের কৌশলগত অবস্থান ও হরমুজ প্রণালিতে তাদের প্রভাব এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এই যুদ্ধের ফলে ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ৩ হাজারের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে, তবে ট্রাম্পের প্রাথমিক লক্ষ্য—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস বা সরকারের পতন—তা অর্জিত হয়নি। বর্তমানে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দেশটিতে শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
এদিকে এই চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন ইসরায়েল সরকার ও মার্কিন রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থীরা। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি একে বড় ধরনের বৈদেশিক নীতিগত ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনও এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এই সমঝোতা কার্যকর না হয়, তবে তিনি পুনরায় বোমাবর্ষণের পথে ফিরে যাবেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসুদ পেজেশকিয়ান। এই চুক্তির ফলে তেল বিক্রির সুযোগ ও জব্দ সম্পদ ফেরত পাচ্ছে তেহরান। অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।


0 মন্তব্যসমূহ