মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২১ জুন) রাতে কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এই ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, মালয়েশিয়ায় অসংখ্য বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন এবং বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার প্রবাসী বর্তমানে কারাগারে আটকে আছেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দ্রুত মুক্ত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হবে বলে তিনি প্রবাসীদের আশ্বস্ত করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আইনের আওতায় থেকে প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। নিজের পরিবারের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোনো প্রতিশোধ নিতে চান না বরং ধৈর্য ধরে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে যেতে চান।
শ্রমবাজারের মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান জানান, মালয়েশিয়ায় যাতে অদক্ষ শ্রমিক না আসে সেজন্য দেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করা হবে। একইসঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে দেশটির সরকারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও দক্ষতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের জন্য এক বছরের বেসিক আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে সিলেবাসে পাঁচটি ভাষা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যেখানে ইংরেজিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য স্কুলের পাঠ্যসূচিতে পাঁচটি খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও তিনি সমাবেশে জানান।
মালয়েশিয়ায় বন্দি ২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রবাসীদের আইনি সুবিধা প্রদান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।


0 মন্তব্যসমূহ