পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর পূর্ণ মন্ত্রিপরিষদ গঠিত না হলেও বিজেপির নীতি রূপায়ণে তৎপরতা শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ায় তারা নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে সচেষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত হিন্দু সমাজ এবং অবাঙালি জনগোষ্ঠীর তীব্র ক্ষোভের কারণে বিজেপির এই জয় প্রত্যাশিত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পেছনে নারী ও সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক অটুট না থাকাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতেও দীর্ঘদিনের দ্রাবিড়ীয় রাজনীতির ধারা ভেঙে নতুন শক্তির উত্থান ঘটেছে। তবে নতুন সরকারগুলোর সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশাল ঋণের বোঝা। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল আমলের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সোয়া ৮ লাখ কোটি টাকা। এই অবস্থায় অন্নপূর্ণা ভান্ডারসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের অনুদান বৃদ্ধি ও বকেয়া ডিএ মেটাতে বছরে অতিরিক্ত দেড় লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রুপির মান কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নির্বাচনের আগে দেওয়া জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি পালন করতে গিয়ে রাজ্যগুলোর কোষাগারে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। একদিকে ঋণের ভার, অন্যদিকে প্রতিশ্রুতি রক্ষার বাধ্যবাধকতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ভারতের সমকালীন রাজনীতি এক জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকারের নীতি রূপায়ণ শুরু হলেও বিশাল ঋণের বোঝা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক সংকটের মুখে কৃচ্ছ্রসাধনের ডাক ও জনমোহিনী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষণ।



0 মন্তব্যসমূহ