পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শরৎনগর পশুর হাট এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। দেশের কোরবানির পশুর বড় একটি অংশ সরবরাহকারী এই জেলায় শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা জমে উঠেছে। শনিবার বিকেলে হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার ব্যাপক আমদানিতে তিল ধারণের জায়গা নেই। দূর-দূরান্ত থেকে খামারিরা বিভিন্ন যানবাহনে করে তাদের পশু নিয়ে হাটে এসেছেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভাঙ্গুড়া থানা-পুলিশের বিশেষ তৎপরতার পাশাপাশি কাজ করছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের মেডিকেল টিম। যানজট নিরসনে বেইলি ব্রিজের দুই পাশে পৌর ট্রাফিক ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানি না থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এবার ২৬ হাজার ৮৮৭টি পশুর চাহিদার বিপরীতে ৬৬ হাজার ৫৩৩টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। অর্থাৎ স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৯ হাজার ৬৪৬টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। ক্রেতারা জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।
শরৎনগর পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আজিম শিলু জানান, হাটে পশুর ব্যাপক আমদানি হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হন। ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, ঈদ ও হাট ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাটে পুলিশি টহল ও জাল নোট শনাক্তকারী মেশিনসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী শরৎনগর পশুর হাট। চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ অনেক বেশি থাকায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।



0 মন্তব্যসমূহ