মে মাসের তীব্র গরমের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ এখন তুঙ্গে। ৪ মে-এর নির্বাচনের ফলাফল তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। দলের অভ্যন্তরে একের পর এক অসন্তোষ এবং প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ১৮ জন হেভিওয়েট নেতা ইতিমধ্যেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন এবং তৃণমূলের অনেক কর্মী-সমর্থক অন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজ করছেন। এই সংকটের কেন্দ্রে উঠে আসছে অভিষেক ব্যানার্জীর নাম। আই-প্যাক নির্ভর প্রার্থী নির্বাচন এবং ৭৪ জন বিধায়ককে বাদ দিয়ে নতুন মুখ আনার সিদ্ধান্ত বড়সড় ঝুঁকি ছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই মমতা ব্যানার্জী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, এই নির্বাচন স্বাভাবিক ছিল না এবং ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তৃণমূল ২৩০টিরও বেশি আসন পেত। মমতা ব্যানার্জী ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির দাবি, মানুষ দুর্নীতি ও কাটমানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে এবং নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বাংলার রাজনীতি এখন এক অস্থির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে অসন্তোষ, অন্যদিকে ডিজিটাল কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন মমতা ব্যানার্জী। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।



0 মন্তব্যসমূহ