কাজের সন্ধানে চট্টগ্রামে এসে বিপাকে পড়া ব্যক্তি থেকে শুরু করে ক্যানসার আক্রান্ত রোগী ও স্বজনহারা অসহায় মানুষেরা হাজির হয়েছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর থেকে আসা ২৫ জন সেবাপ্রত্যাশীর অভাব-অভিযোগ ও আবেদন শোনেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ ছাড়াও অনলাইনে যুক্ত হয়ে জমি নিয়ে বিরোধ ও সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ জানান চারজন প্রবাসী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণশুনানিতে অসুস্থ ও অসহায় ১২ ব্যক্তি এবং এক শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কিছু অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ও ফলাফল আবেদনকারীদের জানানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গণশুনানিতে আসা আবেদনগুলোতে উঠে এসেছে চিকিৎসা অনিশ্চয়তা, অভাবের সঙ্গে লড়াই আর স্বজন হারানোর বেদনার নানা চিত্র। বাঁশখালীর সরল গ্রামের ক্যানসার আক্রান্ত মোঃ আব্দুল্লাহ দ্রুত অস্ত্রোপচারের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তা চেয়েছেন। তাঁর বাবা মোঃ ইদ্রিছ একজন কৃষক হওয়ায় ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না। পটিয়ার কেলিশহরের লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত বরুন কুমার দে, লোহাগাড়ার গলার টিউমারে আক্রান্ত মসজিদের সহকারী পেশ ইমাম মোঃ কফিল উদ্দীন, নগরীর কাজির দেউড়ির সুলতান আহমদ সিকদার এবং বোয়ালখালীর গোদ রোগে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত দিনমজুর মোঃ আব্দুল গফুরও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেদনাদায়ক আবেদনটি এসেছে সদরঘাটের পূর্ব মাদারবাড়ীর আয়েশা বেগমের পক্ষ থেকে। স্বামী ও দুই ছেলেকে হারিয়ে অসুস্থ শরীর নিয়ে বিবাহযোগ্য মেয়েকে নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তাঁর। এ ছাড়াও আকবরশাহ এলাকার বিধবা বেলি আক্তার ও সালমা বেগম এবং স্বামী কারাবন্দি থাকা বাঁশখালীর আসমা বেগমও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। অন্যদিকে, দিনাজপুর থেকে কাজের সন্ধানে চট্টগ্রামে এসে সর্বস্বান্ত হওয়া এক ব্যক্তি বাড়ি ফেরার ভাড়ার জন্য জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হন। অনলাইনে যুক্ত হওয়া চার প্রবাসী তাঁদের জমি জবরদখলের অভিযোগ জানালে জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অভাব, অসুস্থতা ও নানা সংকট নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার গণশুনানিতে হাজির হন অসহায় মানুষেরা। এ সময় ১২ জন অসহায় ব্যক্তি ও এক শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।



0 মন্তব্যসমূহ