ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট খানাখন্দের কারণে দিনভর তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই যানজট অন্তত ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে এই জট তৈরি হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, আমতলী এলাকায় মাত্র আধা কিলোমিটার সড়কে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সংস্কার কাজ চলছে। বৃষ্টির কারণে সেখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। শুক্রবার দুপুরের দিকে উভয় লেনে যানজট ছড়িয়ে পড়লে অনেক রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ে।
ফেনী থেকে ঢাকাগামী ব্যবসায়ী আলমাস খান জানান, দুপুর ১২টায় পদুয়ার বাজারে আটকা পড়ে ময়নামতি পৌঁছাতে তার আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে। মিয়ামী পরিবহনের চালক নাজমুল হাসান জানান, কুমিল্লা বাস স্টেশন থেকে বের হয়ে চান্দিনা পৌঁছাতে তার প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়েছে। ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট নাজমুল হাসান জানান, সংস্কার কাজের জন্য সড়কে যানবাহনের জটলা তৈরি হওয়ায় ধীরগতিতে গাড়ি চলছে।
হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা জানান, গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টিতে আমতলী অংশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত দুই দিনে সেখানে অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে যাওয়ায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কয়েকশ মিটার সড়কের কাজ ৩-৪ মাস ধরে চলায় এই ভোগান্তি হচ্ছে। এদিকে, কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, বৃষ্টির কারণে জরুরি সংস্কার কাজে বিঘ্ন ঘটলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সংস্কারকাজের ধীরগতি ও বৃষ্টির কারণে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।



0 মন্তব্যসমূহ