ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি ও নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের এক ভয়াবহ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত পাঁচ বছরে এই চক্রের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৩৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকারও বেশি লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় নড়াইলের কালিয়া উপজেলার আলাউদ্দিন শেখ ও আওয়াল ফরাজীসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিআইডি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের আলাউদ্দিন শেখ ও আওয়াল ফরাজী এই চক্রের অন্যতম হোতা। তাঁরা লিবিয়ায় লোক পাঠিয়ে সেখানে জিম্মি করে পরিবারের কাছে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করতেন। সেই টাকায় তাঁরা নিজ এলাকায় আলিশান বাড়ি ও খামারসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মুহাম্মদ বাছির উদ্দিন জানান, চক্রের সদস্যদের সম্পদের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।
চক্রটি দেশের ১১টি জেলায় তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। এর মধ্যে নড়াইল ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও কুমিল্লার মতো জেলাগুলো রয়েছে। মুক্তিপণের টাকা লেনদেনের জন্য তারা অন্তত ১১৪টি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেছে। এমনকি মুদিদোকানি বা গৃহিণীদের হিসাব ব্যবহার করে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সিআইডি ১৮টি নামসর্বস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও শনাক্ত করেছে যারা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা লেনদেন করত।
ভুক্তভোগী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের আমেনা বেগম জানান, তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ইতালির কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি করা হয়। তাঁদের মুক্ত করতে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৭৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েছেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, লিবিয়ায় এমন শতাধিক ক্যাম্প রয়েছে যেখানে বাংলাদেশিদের জিম্মি করে নির্যাতন করা হয়। তিনি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান।
ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের এক ভয়াবহ চক্রের সন্ধান মিলেছে। ৫ বছরে ৩৭৬ কোটি টাকা লেনদেন করা এই চক্রের ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিআইডি।



0 মন্তব্যসমূহ